ময়ূরাক্ষী উপন্যাস – ময়ূরাক্ষী বাংলা বই রিভিউ

পরিচয় : ময়ূরাক্ষী

বই : ময়ূরাক্ষী
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
ধারাবাহিক : হিমু
ধরন : উপন্যাস
প্রকাশনা : অনন্যা পাবলিকেশন
প্রকাশকাল : ১৯৯০
ISBN (আইএসবিএন) : ৯৮৪৪১২৫২২৭

হুমায়ুন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ

ময়ূরাক্ষী বইয়ের চরিত্রসমূহ

টুটুল – হিমু
মীরা – জাস্টিস এম. সোবহানের কন্যা
বাদল – হিমুর ফুপাতো ভাই
রূপা – হিমুর বান্ধবী
রিনকি – বাদলের বোন
মজিদ – হিমুর বন্ধু

ময়ূরাক্ষী বুক রিভিউ

ময়ূরাক্ষী : হিমু চরিত্রের উত্থান

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁ‌টি‌তে‌ছি পৃ‌থিবীর প‌থে ,
‌সিংহল সমুদ্র থে‌কে নিশী‌থের অন্ধকা‌রে মালয় সাগ‌রে
অ‌নেক ঘু‌রে‌ছি আ‌মি…

জীবনানন্দের এই কবিতার মতই একটা ছেলে তার জীবনটা পদব্রজেই কাটিয়ে দিচ্ছে, পকেট বিহীন, ঘামে ভেজা হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে খালি পায়ে হেঁটে চলেছে কি দিন কি রাত। পথেই দেখা হয়ে যাচ্ছে কিছু সাধারণ এবং কিছু অসাধারণ মানুষের সাথে। এগিয়ে চলেছে গল্প কখনও গা গুলাচ্ছে, কখনও অদ্ভুত ভালো লাগছে, কখনও ভয় লাগছে, কখনও মনের কোথাও ভোতা যন্ত্রণা অনুভূত হচ্ছে। হ্যাঁ এই ছেলেটাই হিমালয় ওরফে হিমু। হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম।

ময়ূরাক্ষী বই আলোচনা ও কাহিনী সংক্ষেপ

ময়ূরাক্ষী বইটা পড়ার মাধ্যমেই পাঠক এই অদ্ভুত ভবঘুরে ছেলেটার পরিচয় পান, বলতে গেলে হিমু সিরিজ শুরু করলে সবচেয়ে প্রথমে এটা থাকবে।
এই উপন্যাসের শুরুর দিকেই আমরা হিমুর চরিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিকের পরিচয় পাই। টুটুল নামের একটি ছেলের ব্যাপারে অনর্গল বলে, হিমু তার ইনট্যুইশন ক্ষমতার পরিচয় দেয়, তার নিজের একটা নদী আছে বলে দাবি করে, সেই নদীর নাম ময়ূরাক্ষী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে শুধু ঐ নদীর কথা চিন্তা করে কাটিয়ে দিতে পারে। আর তার চরিত্রের অদ্ভুত এই দিক গুলো পাঠককে মোহিত করে রাখে।

এই উপন্যাসেই মূলত স্পষ্ট হয় হিমুর পারিবারিক অবস্থান। পাগলাটে বাবার ছেলেকে মহাপুরুষ বানানোর অদ্ভুত খেয়ালের মাধ্যম হিসেবে থাকা হিমু ছোট বেলায় মাকে হারায়, তাও স্বাভাবিক ভাবে না। এমনকি জগতে মায়া মুক্ত হতে শেখানোর জন্য হিমুর বাবা নির্মমভাবে হিমুর পোষা টিয়া পাখিটিকে মেরেছিলেন (বইটি পড়লে এ ঘটনাগুলি আপনাকে থমকে দিবে)। হিমুর মাতৃগোষ্ঠীয় আত্মীয় স্বজন সম্পর্কিত যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে তারা প্রত্যেকেই মানুষ খুন করতেও অভ্যস্ত। বইটি পড়তে পড়তে কখনও সখনও আপনার মনে হতেই পারে -কোন পাগলের প্রলাপ পড়তে শুরু করলাম রে বাবা!

গল্পে হিমু থাকবে অথচ রূপা থাকবে না, তা কি ভালো দেখায়? মজার বিষয় হল, শুধু হিমুই না, এ গল্পে পাঠকের সাথে পরিচয় হয় রূপা নামের অসীম ধৈর্য্যশীল শান্ত এ মেয়েটির সাথে। ক্লাসের সবার কাম্য অসম্ভব রূপবতী এই মেয়েটি কিভাবে ভবঘুরে চালচুলোহীন হিমুর সাথে জড়িয়ে পরে তাও পাঠক জানবেন এই বইটি থেকে।

বেশি কিছু বলে দিলে বই পড়ার আগ্রহ চলে যায় তাই বেশি কিছু বলছি না। রহস্য, ভালো লাগা, ভালোবাসা, দুঃখ, ঘৃণা, রাগ, রোমাঞ্চ এই সবকটি অনুভূতির স্বাদ রয়েছে এই বইটিতে। হিমু সিরিজের বই পড়ে হিমু হতে চায় নি এমন ছেলে খুব কমই আছে, ঠিক তেমনি ভাবে হিমুর প্রেমে পড়ে নি এমন মেয়েও খুব কমই আছে। তবুও এ জগতে ভালোবাসা গুলি অপ্রকাশিত থেকে যায়, খুব তীব্র ভালোবাসাগুলো অনেক সময় সার্থকতা খুঁজে পায় না। কারণ – ভালোবাসার মানুষের খুব কাছে, কখনও যেতে নেই।

নওশিন আনোয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *