ভাঙা পায়ে হুইল চেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচারণায় মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আজ রোববার এক বিশাল মিছিল করে যুব তৃণমূল কংগ্রেস। আর এ মিছিলে হুইল চেয়ারে বসেই নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মমতার বাড়ির কাছের হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে গত বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে মনোনয়ন জমা দেন মমতা। সেদিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে স্থানীয় কিছু মন্দির পরিদর্শন করে ফেরার পথে গাড়ির দরজায় পায়ে আঘাত পান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তাঁকে তখনই কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।

আজ রোববার তাই প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা হুইল চেয়ারে বসেই চালান মমতা। এ সময় তিনি বলেন, “আমার আজ শারীরিক যন্ত্রণার চেয়ে গণতন্ত্রের যন্ত্রণা বেশি। তাই তো আর বসে থাকতে পারলাম না। মানুষের ভালোবাসার ডাকে আমি সাড়া দিই। এই বাংলার মানুষই আমার বড় শক্তি। একটি নিহত বাঘের চেয়ে একটি আহত বাঘ বেশি ভয়ংকর। ভাঙা পায়েই বাংলা ঘুরে বেড়াব। আমি কখনো মাথা নত করে চলিনি। চক্রান্তকারীদের কোনো চক্রান্ত আমি সফল হতে দেব না।”

প্রসঙ্গত ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে বামফ্রন্ট সরকার ২৭ হাজার একর জমিতে একটি রসায়নশিল্প অঞ্চল গড়ার জন্য অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠেন এলাকার কৃষক ও জমির মালিকেরা। তখন কৃষকদের এই আন্দোলনে যোগ দেন মমতা। রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্ট ও জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। ওই আন্দোলনের সঙ্গে সিঙ্গুর আন্দোলনের জের ধরেই ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টকে পরাস্ত করে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে জমিবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিবর্ষণে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। সেই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *