আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের কোপার লড়াই

জুবায়ের হাসান রাব্বি
বিশ্বকাপ হোক কিংবা কোপা আমেরিকা, বাঙালির ফুটবল সমর্থন মানে ব্রাজিল অথবা আর্জেন্টিনা। ইউরোর খেলা হৃদয় ছুঁয়ে গেলেও, ঘুরেফিরে বাঙালিরা আর্জেন্টাইন অথবা ব্রাজিলিয়ান সমর্থক।
ব্রাজিল অথবা অর্জেন্টিনার খেলা মানেই বাড়তি উত্তেজনা। এখনো এই দুই দলের খেলা চলাকালীন, পরিবারসহ সবাই বসে যায় টিভির সামনে। আর যদি মুখোমুখি হয় ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। তাহলে কোন কথাই নেই।
বাঙালি সমর্থকদের মতো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলেও ঐতিহাসিকভাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতা বিদ্যমান। ১৯১৪ সালে প্রথম দুই দল মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বীতা।
ফুটবলের সাথে তাদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও জড়িত। ১৮২৫ সালে সিসপ্ল্যাটাইন ভূখন্ড নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রায় ৩ বছর তাণ্ডবের পর ব্রিটিশ এবং ফরাসিদের মধ্যস্ততায় যুদ্ধের অবসান ঘটে।
যুদ্ধ থামলেও ফুটবল মাঠের উত্তেজনা কমেনি। ১৯২৫ সালে কোপার ফাইনালে  দু’দল মুখোমুখি হয়ে একটি ফাউল, হাতাহাতিতে দুই দলের ফুটবলার সহ  দর্শকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ম্যাচের পর ১১ বছর মুখোমুখি হয়নি আকাশী-নীল ও হলুদ জার্সির ফুটবলাররা।
১২ বছর পর ফাইনালে  আর্জেন্টাইনদের মাঠে বিতর্কিত গোল আর বর্ণবাদী আচরণে শেষ বাঁশি বাজার আগেই মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।
এর ঠিক ২ বছর পর আবারো বিতর্ক। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ সময়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজায় রেফারি। সে সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায় আর্জেন্টিনার পুরো দল।
১৯৯০ বিশ্বকাপে হোলিওয়াটার কেলেঙ্কারি তো সবারই জানা। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফ্র্যাঙ্কোর পানির আবেদনে আর্জেন্টিনার ফিজিও দেন ট্র্যাঙ্ক্যুলাইজার ড্রাগ মেশানো বোতল। এরপরই ম্যারাডোনার অ্যাসিস্টে ক্লডিও ক্যানিজিয়ার জয়সূচক গোল। স্বপ্নভঙ্গ হয় ব্রাজিলের। ১৫ বছর ফুটবল ইশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা বিষয়টি স্বীকার করলেও আজ অবধি মুখ খোলেনি আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।
২০০৭ সালের পরে বহুবার মুখোমুখি হলেও, ফাইনালে মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল। সর্বশেষ কোপা আমেরিকা ২০১৯ এর সেমিফাইনালে ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়।
এখন পর্যন্ত  ১০ বারের ফাইনাল মোকাবিলায় ব্রাজিল আধিপত্য দেখায় শেষ ২ বারের ফাইনালে। ৮ বার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ২ বার ব্রাজিল।
২০০২ সালের ফাইনালে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় ট্রাইবেকারে জিতেছিল রোনালদো, রিভালদোরা। ২০০৭ দুই দলের শেষ কোপা ফাইনাল। এবারো ব্রাজিল জেতে হেসে খেলে ৩-০ গোলে। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার পর আবার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি ফাইনালে।
আর্জেন্টিনা কোপার ৪২ টি আসরে অংশ নিয়ে ২৮ বার ফাইনাল খেলে, ১৪ বার কোপা আমেরিকার সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে। ব্রাজিল কোপার ৩৭ টি আসরে অংশ নিয়ে ২০ বার ফাইনাল খেলেছে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ৯ বার। এবার আর্জেন্টিনার ২৯তম এবং ব্রাজিলের ২১তম ফাইনাল। কোপা আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আর্জেন্টিনা।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই পর্যন্ত ১০৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ জয় ব্রাজিলের, ৩৪টি জয় আর্জেন্টিনার। আর বাকি ২৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
২০১৯ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলেও, ইনজুরির কারনে নেইমার দলের বাইরে ছিল। তাই মেসি ও নেইমার প্রথমবারের মতো কোন ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবেন এবারের কোপা আমেরিকাতে।
নেইমার দলের হয়ে শিরোপা জিতলেও, ছোঁয়া হয়নি কোপা আমেরিকা শিরোপা। অন্যদিকে মেসি বার্সেলোনার হয়ে অনেকগুলো শিরোপা জিতলেও, দলের হয়ে কোন শিরোপা অধরাই রয়েছে।
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ব্রাজিলের নেইমার বার্সেলোনায় একসাথে খেলেছেন, এই দুজনের সাথে উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের সমন্বয় বার্সেলোনাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড লাইন আপের স্বীকৃতি দেয়।
বার্সেলোনার হয়ে নেইমার-মেসি মাঠ কাঁপালেও, এবারে দুজনে মুখোমুখি হবে শিরোপা জেতার লড়াইয়ে। শেষ হাসি হাসবে নেইমার নাকি মেসি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *